Home / Jobs News / অর্ধলাখ শিক্ষক বদলি হচ্ছে!!!!

অর্ধলাখ শিক্ষক বদলি হচ্ছে!!!!

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতি পূরণে জোড়াতালি পদ্ধতির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নতুন জাতীয়করণ করা বিদ্যালয়ের কম দক্ষ শিক্ষকদের পাঠানো হবে পুরনো সরকারি বিদ্যালয়ে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকের বাড়ির কাছাকাছি বিদ্যালয় অগ্রাধিকার পাবে।

অপরদিকে বিকাল সোয়া ৪টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে প্রত্যেক শিক্ষকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শিক্ষকের উপস্থিতি শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা তদারকি করে প্রতি মাসে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠাবেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এএফএম মনজুর কাদির।

Join our Facebook Group to Get job update & discuss about Job related Topics

 

কয়েক বছর আগে সরকার ২৬ হাজারের বেশি রেজিস্ট্রার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছে। ওইসব বিদ্যালয়ের প্রায় ১ লাখ শিক্ষকের চাকরি সরকারি হয়।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যালয়ের সঙ্গে জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের বেশিরভাগের যোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। অনেকের যথাযথ প্রশিক্ষণ নেই। এসব ঘাটতির কারণে জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ে মানসম্মত পাঠদান বিঘ্নিত হচ্ছে।

Join our Facebook Group to Get job update & discuss about Job related Topics

এমন পরিস্থিতিতে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে জাতীয়কৃত বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষকের অর্ধেককে পুরনো সরকারি বিদ্যালয়ে বদলি করা হবে। ওই শূন্যপদে পুরনো বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে বদলি করা হবে। সেই হিসেবে অন্তত অর্ধলাখ শিক্ষককে পুরনো সরকারি স্কুলে পাঠানো হবে। মার্চ মাসের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবে।

এ ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এএফএম মনজুর কাদির বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) চতুর্থ দফায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে। এই শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে উপযুক্ত পাঠদান প্রয়োজন। কিন্তু জাতীয়কৃত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি অংশের মান নিয়ে অনেকেরই উষ্মা আছে। এমন পরিস্থিতিতে এই বদলি প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দু’একদিনের মধ্যে এ ব্যাপারে সরকারি আদেশ জারি করা হবে।

সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতীয়করণ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির মহাসম্পাদক আমিনুল ইসলাম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের যে কোনো পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই। কাছাকাছি বিদ্যালয়ে বদলির সিদ্ধান্ত এই পদক্ষেপকে আরও গ্রহণযোগ্য করবে। এতে ফলপ্রসূ সমন্বয় নিশ্চিত হবে। তবে এটা ঠিক যে, সব শিক্ষক অদক্ষ নন।

জানা গেছে, রেজিস্ট্রার্ড ২৬ হাজার ১৯৩ স্কুল তিন ধাপে জাতীয়করণ হয়। এরমধ্যে প্রথমধাপের স্কুলের প্রায় সব শিক্ষক একবছর মেয়াদি প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। দ্বিতীয় ধাপের ২ হাজার ৭০ এবং তৃতীয় ধাপের ৪৬০ স্কুলের কেউই এখন পর্যন্ত প্রশিক্ষণ পাননি। ওইসব স্কুলে ১০ সহস্রাধিক শিক্ষক আছেন।

শিক্ষক নেতা আমিনুল ইসলাম চৌধুরী এসব শিক্ষককেও প্রশিক্ষণের অধীনে নেয়ার দাবি তুলে বলেন, জাতীয়করণের পর বিশেষ উদ্যোগে নতুন সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল। এরপর সেই উদ্যোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

বিকাল ৪টা পর্যন্ত উপস্থিতি : এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিতে বিদ্যমান নীতি বাস্তবায়ন এবং তদারকির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মফস্বলের শিক্ষকদের সকাল ৯টা থেকে বিকাল সোয়া ৪টা পর্যন্ত স্কুলে বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে।

আর রাজধানী ঢাকার শিক্ষকদের সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল সোয়া ৪টা পর্যন্ত উপস্থিতির এই নির্দেশনা মানতে হবে। এ ব্যাপারে বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিপত্র জারি করেছে।

মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে যুগান্তরকে বলেন, এটা নতুন কোনো নির্দেশনা নয়। কিন্তু শিক্ষকরা এটি মানতেন না। কিন্তু এখন এই নীতি বাস্তবায়নে সরকার কঠোর তদারিক করবে। উপজেলায় শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা এটি দেখবেন। এছাড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী পরিচালক এবং উপপরিচালকদের এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

রাজধানীতে ৩০ শিক্ষকের বদলি বাতিল : ঢাকা মহানগরীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অন্তত দু’ডজন বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ওইসব শিক্ষক ঢাকা মহানগরীতে বদলির আবেদন করেছিলেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদায়ী মহাপরিচালক বদলির আদেশ অনুমোদন করেছিলেন। কিন্তু বদলির আবেদনের নিষ্পত্তি যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় গত ২৪ জানুয়ারি ঢাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার (ডিপিও) স্বাক্ষরে তা বাতিল করা হয়েছে।

ওই আদেশে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জানুয়ারিতে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক বদলি আদেশ বাতিল করা হল। আদেশে বদলি হওয়া শিক্ষকদের পুনরায় আগের কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলেয়া ফেরদৌসি শিখা। তিনি যুগান্তরকে বলেন, সাধারণত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অন্য এলাকা থেকে আসা সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ শিক্ষক কর্মরত থাকতে পারেন। ঢাকায় বদলি হয়ে আসতে ইচ্ছুক অনেকে। তাদের মধ্যে সীমিত পদে বিভিন্ন শর্ত মেনে বদলির আদেশ দেয়া প্রয়োজন। কিন্তু যে ক’জনকে বদলির অনুমতি দেয়া হয়েছে এ ক্ষেত্রে বিবেচনা যথাযথ হয়নি। এ কারণে বাতিল করা হয়েছে। তবে মার্চ মাসের মধ্যেই আবেদনকারীদের মধ্য থেকে বদলির সিদ্ধান্ত হবে।

Join our Facebook Group to Get job update & discuss about Job related Topics

Check Also

SEBA NGO Job Circular 2019 – www.seba.bd.org

  SEBA NGO Job Circular 2019. Socio-Economic Backing Association job circular 2019. SEBA new job …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *